
নিজস্ব সংবাদদাতা::: চট্টগ্রামের বাঁশখালী উপজেলায় ঈদুল আজহা-পরবর্তী সময়ে কর্মস্থলমুখী যাত্রীদের কাছ থেকে অতিরিক্ত ভাড়া আদায়ের অভিযোগে ভ্রাম্যমাণ আদালত অভিযান পরিচালনা করেছে। অভিযানে চারটি মামলায় মোট ৪ হাজার টাকা জরিমানা আদায় করা হয়েছে।
রোববার উপজেলার গুনাগরীসহ বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ সড়ক ও যানবাহন স্ট্যান্ডে এ অভিযান পরিচালনা করেন বাঁশখালী উপজেলার সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও এক্সিকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেট মো. ওমর সানী আকন। অভিযানে সার্বিক সহযোগিতা করেন বাঁশখালী থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মো. রবিউল হক এবং ট্রাফিক বিভাগের সার্জেন্ট রুবেল হোসেন মিজি।
জানা যায়, ঈদের ছুটি শেষে বিপুল সংখ্যক মানুষ কর্মস্থলে ফিরতে শুরু করায় সড়কপথে যাত্রীচাপ বৃদ্ধি পায়। এ সুযোগে কিছু পরিবহন থেকে নির্ধারিত ভাড়ার চেয়ে অতিরিক্ত অর্থ আদায়ের অভিযোগ পেয়ে মাঠে নামে প্রশাসন। অভিযানের সময় বিভিন্ন গণপরিবহনে যাত্রীদের সঙ্গে কথা বলে ভাড়ার হার যাচাই করা হয়। এ সময় অতিরিক্ত ভাড়া আদায়ের অভিযোগের সত্যতা পাওয়ায় সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়।
পরে ভ্রাম্যমাণ আদালত চারটি মামলা দায়ের করে মোট ৪ হাজার টাকা জরিমানা আদায় করেন।
এক্সিকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেট মো. ওমর সানী আকন বলেন, ‘ঈদ-পরবর্তী সময়ে সাধারণ যাত্রীদের স্বস্তিদায়ক ও হয়রানিমুক্ত যাতায়াত নিশ্চিত করতে প্রশাসন মাঠপর্যায়ে নিয়মিত তদারকি করছে। অতিরিক্ত ভাড়া আদায়, যাত্রী হয়রানি কিংবা সড়ক শৃঙ্খলা ভঙ্গের মতো অনিয়মের বিরুদ্ধে আমাদের অভিযান অব্যাহত থাকবে। কোনো ধরনের অনিয়ম বরদাশত করা হবে না।’
বাঁশখালী থানার ওসি মো. রবিউল হক বলেন, ‘সাধারণ যাত্রীদের ন্যায্য অধিকার নিশ্চিত করতে প্রশাসন, পুলিশ ও ট্রাফিক বিভাগ সমন্বিতভাবে কাজ করছে। পরিবহন খাতে অতিরিক্ত ভাড়া আদায় বা যাত্রী হয়রানির অভিযোগ পাওয়া গেলে তাৎক্ষণিক ব্যবস্থা নেওয়া হবে। সড়কে শৃঙ্খলা বজায় রাখতে আমাদের তৎপরতা অব্যাহত থাকবে।’
প্রশাসনের এ উদ্যোগকে স্বাগত জানিয়েছেন সাধারণ যাত্রীরা। তাদের মতে, ঈদ ও অন্যান্য উৎসবকে কেন্দ্র করে অতিরিক্ত ভাড়া আদায় দীর্ঘদিনের সমস্যা। নিয়মিত অভিযান পরিচালিত হলে যাত্রী হয়রানি কমবে এবং সাধারণ মানুষের ভোগান্তি হ্রাস পাবে।
স্থানীয় সচেতন মহলও মনে করছে, যাত্রীসেবার মানোন্নয়ন এবং সড়ক পরিবহনে শৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনতে এ ধরনের ভ্রাম্যমাণ আদালতের অভিযান গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। প্রশাসনের ধারাবাহিক নজরদারির ফলে পরিবহন খাতে জবাবদিহিতা বৃদ্ধি পাবে এবং সাধারণ যাত্রীরা সরাসরি উপকৃত হবেন।