
“৬০টি মোবাইল কোর্টে ৩৩জনের কারাদণ্ড”
শিব্বির আহমদ রানা::: চট্টগ্রামের বাঁশখালী উপজেলায় মাদকবিরোধী অভিযানে জোরদার তৎপরতা চালাচ্ছে উপজেলা প্রশাসন।মাদকাসক্তির ক্রমবর্ধমান বিস্তার রোধে নিয়মিত মোবাইল কোর্ট পরিচালনার মাধ্যমে তাৎক্ষণিক বিচার ও শাস্তি নিশ্চিত করা হচ্ছে। এ কার্যক্রমের নেতৃত্ব দিচ্ছেন উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও এক্সিকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেট মো. ওমর সানী আকন, যার দৃঢ় অবস্থান ইতোমধ্যে স্থানীয়দের প্রশংসা কুড়িয়েছে।
উপজেলা প্রশাসন সূত্রে জানা গেছে, সাম্প্রতিক সময়ে বাঁশখালীতে ৬০টিরও বেশি মোবাইল কোর্ট অভিযান পরিচালিত হয়েছে। এসব অভিযানে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইন, ২০১৮-এর ৩৬(৫) ধারায় মাদকসেবন ও সংশ্লিষ্ট অপরাধে জড়িতদের বিরুদ্ধে তাৎক্ষণিক ব্যবস্থা নেওয়া হয়। অভিযানের আওতায় এ পর্যন্ত ৩৩ জনকে বিভিন্ন মেয়াদে কারাদণ্ড প্রদান করা হয়েছে। দণ্ডপ্রাপ্তদের মধ্যে কেউ ১৫ দিন, কেউ এক মাস, দুই মাস, চার মাস এবং সর্বোচ্চ ছয় মাস পর্যন্ত কারাভোগ করছেন। পাশাপাশি মোট ৫ হাজার ৮৫০ টাকা অর্থদণ্ড আদায় করা হয়েছে।
প্রশাসনের সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন, দ্রুত বিচার ও শাস্তির ফলে মাদক সংশ্লিষ্ট অপরাধ নিয়ন্ত্রণে দৃশ্যমান প্রভাব পড়তে শুরু করেছে। এ ধরনের অভিযান অব্যাহত থাকলে মাদক ব্যবসা ও সেবনের প্রবণতা আরও কমে আসবে বলে আশা করা হচ্ছে।
অভিযান পরিচালনায় বাঁশখালী থানা পুলিশ ও স্থানীয় জনগণের সক্রিয় সহযোগিতা ছিল উল্লেখযোগ্য। জানা গেছে, উপজেলার বিভিন্ন গ্রাম, অলিগলি ও ঝুপড়ি দোকানসহ কিছু প্রকাশ্য স্থানে মাদক সেবন ও বিকিকিনির অভিযোগের প্রেক্ষিতে এলাকার সচেতন মহল রাতের বেলায় পাহারার ব্যবস্থা করেছে। এ ধরনের তথ্যের ভিত্তিতেই উপজেলা প্রশাসন আরও সক্রিয় হয়ে মাদকবিরোধী অভিযান জোরদার করেছে।
স্থানীয় বাসিন্দারা সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও এক্সিকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেট মো. ওমর সানী আকনের ধারাবাহিক তৎপরতাকে সাধুবাদ জানিয়েছেন। তাদের মতে, প্রশাসনের কঠোর অবস্থান ও নিয়মিত অভিযান মাদক নিয়ন্ত্রণে কার্যকর ভূমিকা রাখছে এবং এলাকায় ইতিবাচক পরিবর্তন দৃশ্যমান হচ্ছে।
এদিকে, সম্প্রতি তার নেতৃত্বে ১৯৭৭-৭৮ সালে মরহুম প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের উদ্যোগে খনন করা বাঁশখালীর বৈলছড়ি ইউনিয়নের ঐতিহাসিক চেচুরিয়ার ‘আদর্শ গ্রাম খাল’ দখলমুক্ত করে স্বাভাবিক প্রবাহ ফিরিয়ে আনার ঘটনাও ব্যাপক প্রশংসিত হয়েছে। দীর্ঘদিন ধরে স্থানীয় কৃষি, জীবিকা ও জলনিষ্কাশনের গুরুত্বপূর্ণ মাধ্যম হিসেবে ব্যবহৃত এ খাল পুনরুদ্ধার স্থানীয়দের মধ্যে স্বস্তি ফিরিয়ে এনেছে।
সংশ্লিষ্টরা আরও জানান, মাদক নির্মূলের পাশাপাশি ভূমিদস্যু ও বনদস্যুদের বিরুদ্ধেও প্রশাসনের তৎপরতা অব্যাহত রয়েছে। উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, মাদকের বিরুদ্ধে ‘জিরো টলারেন্স’ নীতি অনুসরণ করে ভবিষ্যতেও এ ধরনের অভিযান ধারাবাহিকভাবে চলমান থাকবে।