নিজস্ব সংবাদদাতা::: চট্টগ্রামের বাঁশখালী উপজেলায় অবৈধভাবে বালু উত্তোলনের বিরুদ্ধে অভিযান চালিয়েছে উপজেলা প্রশাসন। বুধবার (২৮ অক্টোবর) দিনব্যাপী উপজেলার খানখানাবাদ, সাধনপুর ও পুকুরিয়া ইউনিয়নের বিভিন্ন এলাকায় পরিচালিত অভিযানে অন্তত ৬৮টি ড্রেজার পাইপ জব্দ করা হয়েছে। এ ছাড়া পুকুরিয়া ইউনিয়নে শিরোপা বিল্ডার্স নামের একটি প্রতিষ্ঠানের এক্সকাভেটর জব্দ এবং সাঙ্গু নদীর সঙ্গে সংযোগকারী দুটি ড্রেজার পাইপ বিচ্ছিন্ন করা হয়েছে।
উপজেলা প্রশাসন সূত্রে জানা যায়, খানখানাবাদ ইউনিয়নের পশ্চিম রায়ছটা ও ঈশ্বর বাবুর হাটের চৌধুরী ঘাটসংলগ্ন চারটি স্থানে অভিযান চালিয়ে বিভিন্ন ধরনের ৬৪টি অবৈধ ড্রেজার পাইপ জব্দ করা হয়। এ ছাড়া সাধনপুর ইউনিয়নের দুটি স্থান থেকে আরও চার থেকে পাঁচটি ড্রেজার পাইপ জব্দ করা হয়েছে।
অভিযানের অংশ হিসেবে পুকুরিয়া ইউনিয়নের তৈলারদ্বীপ সেতুসংলগ্ন এলাকায় শিরোপা বিল্ডার্সের বালু উত্তোলন কার্যক্রমে অভিযান চালানো হয়। স্থানীয় বাসিন্দাদের অভিযোগ, প্রতিষ্ঠানটি প্রয়োজনীয় অনুমোদন ছাড়াই সাঙ্গু নদী থেকে বালু উত্তোলন করছে। অভিযোগের ভিত্তিতে সেখানে অভিযান পরিচালনা করে উপজেলা প্রশাসন।
উপজেলা প্রশাসন জানায়, শিরোপা বিল্ডার্সের চট্টগ্রামের চন্দনাইশ উপজেলার ডলুখাল বালুমহাল থেকে বালু উত্তোলন এবং পুকুরিয়ার ওই ডাম্পিং পয়েন্ট ব্যবহারের অনুমোদন রয়েছে। তবে সাঙ্গু নদী থেকে বালু উত্তোলনের অনুমোদন প্রতিষ্ঠানটির নেই। এ অবস্থায় নদীর সঙ্গে সংযোগকারী দুটি ড্রেজার পাইপ বিচ্ছিন্ন করা হয় এবং প্রতিষ্ঠানটির একটি এক্সকাভেটর জব্দ করা হয়।
এ সময় প্রতিষ্ঠানটিকে যথাযথ কর্তৃপক্ষের দেওয়া অনুমতিপত্র এবং সংশ্লিষ্ট কার্যক্রম পরিচালনার এখতিয়ারসংক্রান্ত কাগজপত্র বাঁশখালী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কার্যালয়ে জমা দিতে বলা হয়েছে। নির্ধারিত কাগজপত্র দাখিল করতে ব্যর্থ হলে প্রতিষ্ঠানটির বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে জানিয়েছে উপজেলা প্রশাসন।
অভিযান চলাকালে বিভিন্ন স্থান থেকে বিভিন্ন পরিমাণ বালুও জব্দ করা হয়। জব্দ করা বালু স্থানীয় ইউনিয়ন পরিষদের সংশ্লিষ্ট সদস্যদের জিম্মায় রাখা হয়েছে।
বাঁশখালী উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট তামজিদুর রহমান তন্ময় বলেন, 'অবৈধভাবে বালু উত্তোলন বন্ধে উপজেলা প্রশাসনের অভিযান অব্যাহত থাকবে। যেসব স্থানে অনুমোদন ছাড়া বালু উত্তোলনের অভিযোগ পাওয়া যাচ্ছে, সেসব বিষয়ে প্রয়োজনীয় যাচাই-বাছাই করে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।'
অভিযান পরিচালনাকালে এ সময় স্থানীয় জনপ্রতিনিধি, থানাপুলিশের বিশেষ টিম ও ইউনিয়ন পরিষদের গ্রামপুলিশ সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন।
উল্লেখ্য, নদী থেকে অবৈধভাবে বালু উত্তোলনের ফলে নদীর তীরভাঙন, পরিবেশের ভারসাম্য নষ্ট হওয়া এবং সেতু ও আশপাশের অবকাঠামো ঝুঁকির মুখে পড়ার আশঙ্কা রয়েছে। এসব ক্ষতি প্রতিরোধে নিয়মিত নজরদারি ও কার্যকর অভিযান জরুরি বলে মনে করছেন স্থানীয় বাসিন্দারা।
প্রকাশক ও সম্পাদক : শিব্বির আহমদ রানা, ফোন নম্বর: ০১৭৮১৩-৭৭৮১৯, 𝐄-𝐦𝐚𝐢𝐥: 𝐛𝐚𝐧𝐬𝐡𝐤𝐡𝐚𝐥𝐢𝐬𝐚𝐧𝐠𝐥𝐚𝐩@𝐠𝐦𝐚𝐢𝐥.𝐜𝐨𝐦, অস্থায়ী ঠিকানা: স্মরণিকা প্রিন্টিং প্রেস। উপজেলা সদর, জলদী, বাঁশখালী, পৌরসভা, চট্টগ্রাম।
© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত