বাঁশখালী সংলাপ:::: চট্টগ্রামের বাঁশখালীর চাম্বল উচ্চ বিদ্যালয়ে মঙ্গলবার সকাল থেকে দীর্ঘ সময় বিদ্যুৎ না থাকায় চরম ভোগান্তিতে পড়েছে শিক্ষার্থীরা। একই সময়ে পাশের একটি প্রাথমিক বিদ্যালয়েও বিদ্যুৎ না থাকায় দুই শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের প্রায় দুই হাজার শিক্ষার্থীকে প্রচণ্ড গরমের মধ্যে অবস্থান করতে হয়েছে। দীর্ঘ সময় বিদ্যুৎ না থাকায় বিদ্যালয়ের বেশির ভাগ শৌচাগারে পানি শেষ হয়ে যায়। এতে শিক্ষার্থীদের স্বাস্থ্যঝুঁকি ও স্যানিটেশন ব্যবস্থা নিয়ে উদ্বেগ তৈরি হয়।
চাম্বল উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মো. রেজাউল করিম মঙ্গলবার (২৯ সেপ্টেম্বর) নিজের ফেসবুক পোস্টে এ পরিস্থিতির কথা তুলে ধরেন।
প্রধান শিক্ষক জানান, সকাল ১০টা থেকে বিদ্যালয়ে বিদ্যুৎ ছিল না। ওই দিন বিদ্যালয়ে উপস্থিত শিক্ষার্থীর সংখ্যা ছিল ১ হাজার ৩০০-এর বেশি। বিদ্যালয়ের প্রায় ৩০টি শৌচাগারের অধিকাংশের পানি শেষ হয়ে যায়। বিষয়টি জানাতে দুপুর ১টার দিকে একাধিকবার চেষ্টা করে পল্লী বিদ্যুৎ অফিসের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে, তাঁকে উল্টো কেন আরও আগে জানানো হয়নি–এমন প্রশ্ন করা হয় বলে অভিযোগ করেন তিনি।
পরে বিষয়টি শুধু তাঁর বিদ্যালয়ের সমস্যা কি না, তা নিশ্চিত হতে পাশের একটি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে যোগাযোগ করেন প্রধান শিক্ষক। সেখানেও সকাল থেকে বিদ্যুৎ না থাকার কথা জানানো হয়। ওই বিদ্যালয়েও শিক্ষার্থীর সংখ্যা এক হাজারের বেশি বলে তিনি উল্লেখ করেন।
প্রধান শিক্ষক তাঁর পোস্টে লেখেন, দীর্ঘ সময় বিদ্যুৎ না থাকায় শিক্ষার্থীরা প্রচণ্ড গরমে ছটফট করছিল। পরিস্থিতি সামাল দিতে অতিরিক্ত গরম থাকা শ্রেণিকক্ষের শিক্ষার্থীদের বাইরে বের করে অপেক্ষাকৃত খোলামেলা জায়গায় নেওয়া হয়। পাশাপাশি বিদ্যালয় পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতার কাজেও তাদের যুক্ত করা হয়, যাতে অন্তত কিছুটা স্বস্তি পাওয়া যায়।
দুপুর গড়িয়ে প্রায় ৩টা পর্যন্ত বিদ্যুৎ না থাকায় বিদ্যালয়ের শৌচাগারগুলোতে দুর্গন্ধ ছড়িয়ে পড়ে বলেও জানান প্রধান শিক্ষক। তাঁর ভাষ্য, শৌচাগারে পানি না থাকলে শিক্ষার্থীরা অনেক সময় পানির কলও নষ্ট করে ফেলে। ফলে দীর্ঘ বিদ্যুৎ বিভ্রাটের কারণে বিদ্যালয়ের স্বাভাবিক কার্যক্রমের পাশাপাশি স্যানিটেশন ব্যবস্থাও ব্যাহত হয়।
বিদ্যুৎ পরিস্থিতি সম্পর্কে জানতে পল্লী বিদ্যুৎ বিভাগের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তার সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করেও সাড়া পাওয়া যায়নি বলে অভিযোগ করেন তিনি। একই সঙ্গে সারাদিন বিদ্যুৎ সরবরাহ সম্ভব না হলে আগেই বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষকে জানানো হলে পানি সংরক্ষণসহ প্রয়োজনীয় প্রস্তুতি নেওয়া যেত বলে মন্তব্য করেন প্রধান শিক্ষক।
মো. রেজাউল করিম বলেন, শিক্ষার্থীদের এমন প্রতিকূল পরিবেশে দীর্ঘ সময় অবস্থান করতে হলে তাদের শারীরিক স্বস্তি ও স্বাস্থ্যঝুঁকি–দুটিই বিবেচনায় নেওয়া জরুরি। বিদ্যালয়ে বিপুলসংখ্যক শিক্ষার্থী থাকায় বিদ্যুৎ ও পানি সরবরাহের মতো মৌলিক সেবা ব্যাহত হলে পরিস্থিতি দ্রুত জটিল হয়ে পড়ে।
তিনি আরও বলেন, ‘এত প্রতিকূল পরিবেশে শিক্ষার্থীদের বিকাশ আসলেই কঠিন। শিক্ষার্থীদের অবস্থা দেখে দুঃখ লাগছিল, কিন্তু করার মতো তেমন কিছুই ছিল না।’
প্রধান শিক্ষকের ভাষ্য অনুযায়ী, চাম্বল উচ্চ বিদ্যালয় ও পাশের প্রাথমিক বিদ্যালয়ে সেদিন প্রায় দুই হাজার শিক্ষার্থীকে দীর্ঘ সময় প্রচণ্ড গরম ও পানি সংকটের মধ্যে থাকতে হয়েছে।
প্রকাশক ও সম্পাদক : শিব্বির আহমদ রানা, ফোন নম্বর: ০১৭৮১৩-৭৭৮১৯, 𝐄-𝐦𝐚𝐢𝐥: 𝐛𝐚𝐧𝐬𝐡𝐤𝐡𝐚𝐥𝐢𝐬𝐚𝐧𝐠𝐥𝐚𝐩@𝐠𝐦𝐚𝐢𝐥.𝐜𝐨𝐦, অস্থায়ী ঠিকানা: স্মরণিকা প্রিন্টিং প্রেস। উপজেলা সদর, জলদী, বাঁশখালী, পৌরসভা, চট্টগ্রাম।
© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত