শিব্বির আহমদ রানা::: চট্টগ্রামের বাঁশখালীর প্রবীণ শিক্ষক, সংগঠক ও সমাজহিতৈষী বগলা ভূষন বড়ুয়া আর নেই। বুধবার (২৩ সেপ্টেম্বর) সন্ধ্যা ৭টার দিকে উপজেলার শীলকূপ বড়ুয়াপাড়াস্থ নিজ বাসভবনে তিনি শেষ নিশ্বাস ত্যাগ করেন। মৃত্যুকালে তাঁর বয়স হয়েছিল ৮৭ বছর।
বগলা ভূষন বড়ুয়া দীর্ঘদিন ধরে শিক্ষকতা ও বিভিন্ন সামাজিক-ধর্মীয় সংগঠনের সঙ্গে যুক্ত থেকে এলাকার শিক্ষা ও সমাজ উন্নয়নে ভূমিকা রেখেছেন। তাঁর মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন নাতি ডেনি বড়ুয়া।
পরিবার সূত্রে জানা গেছে, বগলা ভূষন বড়ুয়া স্ট্রোকে আক্রান্ত হয়ে গত প্রায় তিন সপ্তাহ চট্টগ্রাম নগরীর পার্কভিউ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন ছিলেন। পরে শারীরিক অবস্থার অবনতি হলে তাঁকে নিজ বাড়িতে নেওয়া হয়।
১৯৩৯ সালের ১২ ফেব্রুয়ারি বাঁশখালীর শীলকূপ গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন বগলা ভূষন বড়ুয়া। তাঁর বাবা ধীরেন্দ্র লাল বড়ুয়া এবং মা বাসিনী বালা বড়ুয়া।
শীলকূপ সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে প্রাথমিক শিক্ষা শেষে তিনি জলদী হাই স্কুল থেকে ১৯৫৯ সালে এসএসসি পাস করেন। পরে ১৯৭২-৭৩ শিক্ষাবর্ষে প্রাইভেট পরীক্ষায় এইচএসসি পাস করেন। পাশাপাশি হোমিওপ্যাথিক ডিএইচএম কোর্স ও জরিপ প্রশিক্ষণ (সার্ভেয়ার) কোর্স সম্পন্ন করেন। ১৯৮৩-৮৭ শিক্ষাবর্ষে ধর্মীয় সূত্র উপাধি ও সি.ইন.এড প্রশিক্ষণ গ্রহণ করেন।
১৯৬১ সালের ১০ মার্চ কদম রসুল সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে শিক্ষক হিসেবে কর্মজীবন শুরু করেন বগলা ভূষন বড়ুয়া। পরে পাইরাং সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, দক্ষিণ জলদী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় ও জালিয়াঘাটা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে শিক্ষকতা করেন। জালিয়াঘাটা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে পদোন্নতি পেয়ে প্রধান শিক্ষক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। পরবর্তী সময়ে শীলকূপ সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে দীর্ঘ ৩৪ বছর শিক্ষকতা শেষে ১৯৯৯ সালের ৩০ জুন অবসর নেন।
শিক্ষকতার পাশাপাশি তিনি বিভিন্ন সাংগঠনিক দায়িত্ব পালন করেন। শীলকূপ ইউনিয়ন প্রাথমিক শিক্ষক সমিতির সাধারণ সম্পাদক, বাঁশখালী উপজেলা প্রাথমিক বিদ্যালয় পরীক্ষা পরিচালনা ও সমন্বয়কারী এবং বাঁশখালী উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষক সমিতির অর্থ সম্পাদক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন।
শিক্ষা ও ধর্মীয় ক্ষেত্রেও তাঁর উল্লেখযোগ্য ভূমিকা ছিল। ১৯৮৩ সালে এনসিইটিবি আয়োজিত সম্মেলনে তৃতীয় থেকে পঞ্চম শ্রেণির বৌদ্ধ ধর্মীয় পাঠ্যবই সংশোধনী কমিটির সদস্য মনোনীত হন। ১৯৮৭ সালে বাঁশখালী বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের অভিভাবক সদস্য নির্বাচিত হন। তাঁর দায়িত্ব পালনকালে ১৯৯০ সালে শীলকূপ সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় শ্রেষ্ঠ বিদ্যালয়ের মর্যাদা লাভ করে।
শীলকূপ জ্ঞানোদয় বৌদ্ধ বিহার পরিচালনা কমিটির সভাপতির দায়িত্বও পালন করেন তিনি। এ ছাড়া বাঁশখালী উপজেলা বৌদ্ধ সমিতির সহসভাপতি, জ্ঞানোপাল মহাথেরোর অন্ত্যেষ্টিক্রিয়া অভ্যর্থনা কমিটির সভাপতি এবং শান্তিপ্রিয় মহাথেরোর হীরকজয়ন্তী ও অন্ত্যেষ্টিক্রিয়া কমিটির সহসভাপতির দায়িত্ব পালন করেন।
সমাজসেবায় অবদানের স্বীকৃতিস্বরূপ ২০০৩ সালে জ্ঞানসেন কল্যাণ ট্রাস্টের সম্মাননা এবং বাঁশখালী বৌদ্ধ সমিতির পক্ষ থেকে অবসরপ্রাপ্ত প্রাথমিক শিক্ষক হিসেবে সম্মাননা লাভ করেন। মৃত্যুর আগ পর্যন্ত তিনি অবসরপ্রাপ্ত প্রাথমিক শিক্ষক কল্যাণ সমিতির আজীবন সদস্য ছিলেন।
ব্যক্তিজীবনে বগলা ভূষন বড়ুয়া স্ত্রী পারুল রানী বড়ুয়া, দুই ছেলে ও তিন মেয়েসহ অসংখ্য আত্মীয়-স্বজন ও গুণগ্রাহী রেখে গেছেন। তাঁর বড় ছেলে হিতোষময় বড়ুয়া বান্দরবানের চেমীডলু পাড়া উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক এবং দ্বিতীয় ছেলে রণতোষ বড়ুয়া পুলিশ বিভাগের এএসআই হিসেবে কর্মরত।
তাঁর মৃত্যুতে স্থানীয় জনপ্রতিনিধি, শিক্ষকসমাজ, শিক্ষার্থী, ধর্মীয় ব্যক্তিত্ব এবং বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ গভীর শোক ও সমবেদনা জানিয়েছেন। তাঁর মৃত্যুতে বাঁশখালীর শিক্ষা ও সামাজিক অঙ্গনে শোকের ছায়া নেমে এসেছে।
প্রকাশক ও সম্পাদক : শিব্বির আহমদ রানা, ফোন নম্বর: ০১৭৮১৩-৭৭৮১৯, 𝐄-𝐦𝐚𝐢𝐥: 𝐛𝐚𝐧𝐬𝐡𝐤𝐡𝐚𝐥𝐢𝐬𝐚𝐧𝐠𝐥𝐚𝐩@𝐠𝐦𝐚𝐢𝐥.𝐜𝐨𝐦, অস্থায়ী ঠিকানা: স্মরণিকা প্রিন্টিং প্রেস। উপজেলা সদর, জলদী, বাঁশখালী, পৌরসভা, চট্টগ্রাম।
© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত