বাঁশখালীবাসীর বিদ্যুৎ সমস্যার স্থায়ী সমাধানের দাবিতে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা এবং মাননীয় এমপি মহোদয়ের কার্যালয়ে দুটি আবেদন প্রেরণ করেছিলাম ৪ জুন ২০২৬ তারিখে। দেখতে দেখতে তিন মাস পার হয়ে গেল। কিন্তু ভুক্তভোগী মানুষগুলোর দুর্ভোগের যেন কোনো শেষ নেই। এখনো তারা মানবেতর জীবনযাপন করছেন। অথচ সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের টনক নড়ছে না!
আমার ঘরে বিদ্যুৎ জন্মায়, অথচ আমি অন্ধকারে থাকি–এর চেয়ে বেদনাদায়ক আর কী হতে পারে? অন্ধকারে জন্ম নেওয়া ভবিষ্যৎ প্রজন্ম দেশকে আলোকিত করবে কীভাবে?
লজ্জার বিষয় হলো, স্বাধীনতার ৫৪ বছর পার হয়ে গেছে। এ সময়ে কত সরকার এসেছে, উন্নয়নের কত প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়েছে, উন্নয়নের জোয়ারে দেশ ভাসানোর কত গল্প আমরা শুনেছি। কিন্তু বাঁশখালীর অনেক শিশু এখনো বিদ্যুতের সুইচ পর্যন্ত দেখেনি। তাদের কাছে বিদ্যুৎ যেন এখনো স্বপ্নের বিষয়।
চোখ বুলালেই দেখা যায়, আলোহীন পরিবেশে বেড়ে ওঠা অনেক যুবক গ্রামে গ্রামে মাদক ও ইয়াবার সাম্রাজ্যে জড়িয়ে পড়ছে। বিদ্যুৎ শুধু ঘর আলোকিত করে না; শিক্ষার পরিবেশ তৈরি করে, কর্মসংস্থানের সুযোগ বাড়ায়, প্রযুক্তির সঙ্গে মানুষকে যুক্ত করে এবং একটি প্রজন্মের জীবনধারায় পরিবর্তন আনে।
বাঁশখালীর নিজস্ব ভূমিতে উৎপাদিত বিদ্যুৎ দিয়ে বাঁশখালীবাসীর শতভাগ বিদ্যুতায়নের দাবি অযৌক্তিক নয়। বরং স্থানীয় মানুষের ন্যায্য অধিকার হিসেবেই বিষয়টি বিবেচনা করা উচিত। বাঁশখালীর বিদ্যুৎ সমস্যার স্থায়ী সমাধানে এর চেয়ে ভালো কোনো বিকল্প আছে বলে আমার মনে হয় না।
এখন প্রয়োজন জনসচেতনতা তৈরি করা। বিশেষ করে স্থানীয় নির্বাচন সামনে রেখে জনপ্রতিনিধিদের কাছে বিদ্যুৎ সমস্যার স্থায়ী সমাধানকে অন্যতম প্রধান দাবি হিসেবে তুলে ধরতে হবে। জনগণের ভোটের মাধ্যমে যারা দায়িত্ব নেবেন, তাদের কাছ থেকে এই দাবি আদায়ে জনগণকেই সোচ্চার হতে হবে।
বাঁশখালীর মাটিতে বিদ্যুৎ উৎপাদন হবে, অথচ সেই বাঁশখালীর মানুষ অন্ধকারে থাকবে–এই বৈপরীত্যের অবসান হওয়া জরুরি। উন্নয়নের আলো যদি মানুষের ঘরে না পৌঁছায়, তবে সেই উন্নয়নের পূর্ণতা কোথায়?
–ফরিদুল ইসলাম
আফ্রিকা প্রবাসী
প্রকাশক ও সম্পাদক : শিব্বির আহমদ রানা, ফোন নম্বর: ০১৭৮১৩-৭৭৮১৯, 𝐄-𝐦𝐚𝐢𝐥: 𝐛𝐚𝐧𝐬𝐡𝐤𝐡𝐚𝐥𝐢𝐬𝐚𝐧𝐠𝐥𝐚𝐩@𝐠𝐦𝐚𝐢𝐥.𝐜𝐨𝐦, অস্থায়ী ঠিকানা: স্মরণিকা প্রিন্টিং প্রেস। উপজেলা সদর, জলদী, বাঁশখালী, পৌরসভা, চট্টগ্রাম।
© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত