শিব্বির আহমদ রানা::: বাঙালি হিন্দু সম্প্রদায়ের প্রধান ধর্মীয় উৎসব শারদীয় দুর্গাপূজা সামনে রেখে চট্টগ্রামের বাঁশখালীতে প্রতিমা তৈরির ব্যস্ততা বেড়েছে। পূজার প্রায় এক মাস বাকি থাকলেও উপজেলার বিভিন্ন মন্দির ও প্রতিমা তৈরির কারখানায় দিন-রাত চলছে প্রস্তুতির কাজ। পূজা যত এগিয়ে আসছে, কারিগরদের ব্যস্ততাও তত বাড়ছে।
বাঁশখালীর বিভিন্ন এলাকা ঘুরে দেখা গেছে, খড়, কাঠ, সুতা ও মাটি দিয়ে নিপুণ হাতে তৈরি হচ্ছে দেবী দুর্গাসহ অন্যান্য দেবদেবীর প্রতিমা। কোথাও কাঠামো তৈরির কাজ চলছে, কোথাও মাটির প্রলেপে ফুটিয়ে তোলা হচ্ছে প্রতিমার অবয়ব। কোনো কোনো কারখানায় প্রতিমা শুকানোর পর শুরু হয়েছে রং ও অলংকরণের প্রস্তুতিও। কারিগরদের পাশাপাশি পরিবারের নারী ও শিশুরাও সহযোগিতা করছেন কাজে।
প্রতিমা কারিগরদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, বৈশাখ মাস থেকেই অনেক কারখানায় প্রতিমা তৈরির কাজ শুরু হয়েছে। বাঁশখালীতে ছোট-বড় মিলিয়ে প্রায় ছয়টি প্রতিমা তৈরির কারখানা রয়েছে। পাশাপাশি বিভিন্ন পূজামণ্ডপেও আয়োজকদের তত্ত্বাবধানে প্রতিমা তৈরি করা হয়। স্থানীয় কারিগরদের হাতেই অধিকাংশ প্রতিমা তৈরি হওয়ায় বাইরে থেকে প্রতিমা বা কারিগর আনার প্রয়োজন পড়ে না।
উপজেলার প্রতিমা কারিগর শিবলু আচার্য, পিন্টু আচার্য ও গোকুল পাল বলেন, ‘বৈশাখ থেকেই প্রতিমা তৈরির কাজ শুরু হয়েছে। এখন প্রতিমার অবয়ব দেওয়ার কাজ প্রায় শেষ পর্যায়ে। কয়েক দিনের মধ্যে রং করার কাজ শুরু হবে, যা ষষ্ঠীর আগপর্যন্ত চলবে। পূজার সময় ঘনিয়ে আসায় কাজের চাপও দিন দিন বাড়ছে।’
সনাতন ধর্মীয় বিশ্বাসে দেবী দুর্গা শক্তি ও সুন্দরের প্রতীক। অশুভ শক্তির বিনাশ ও শুভ শক্তির প্রতিষ্ঠার প্রত্যাশায় প্রতিবছর শরৎকালে দেবী দুর্গার আরাধনা করেন সনাতন ধর্মাবলম্বীরা। তাই দুর্গাপূজা ঘিরে বাঁশখালীতেও এখন উৎসবের আমেজ। মণ্ডপ সাজানো, কেনাকাটা ও পূজার আনুষঙ্গিক প্রস্তুতিতে ব্যস্ত সময় পার করছেন আয়োজক ও ভক্তরা।
বাঁশখালী উপজেলা পূজা উদ্যাপন পরিষদ সূত্রে জানা গেছে, এবার উপজেলায় ৮৮টি মণ্ডপে শারদীয় দুর্গাপূজা অনুষ্ঠিত হবে। এ ছাড়া ঘরোয়াভাবে ১৮৯টি ঘটপূজা হবে।
২০২৬ সালের পঞ্জিকা অনুযায়ী, ১০ অক্টোবর মহালয়ার মধ্য দিয়ে দুর্গোৎসবের আবহ শুরু হবে। ১৬ অক্টোবর মহাপঞ্চমী, ১৭ অক্টোবর মহাষষ্ঠী, ১৮ অক্টোবর মহাসপ্তমী, ১৯ অক্টোবর মহাষ্টমী, ২০ অক্টোবর মহানবমী এবং ২১ অক্টোবর বিজয়া দশমী। বিজয়া দশমীতে শঙ্খধ্বনি, উলুধ্বনি ও ঢাকের বাদ্যের মধ্য দিয়ে দেবী দুর্গার বিসর্জনের মাধ্যমে শেষ হবে শারদীয় দুর্গোৎসব।
বাঁশখালী উপজেলা পূজা উদ্যাপন পরিষদের সভাপতি লায়ন শেখর দত্ত বলেন, ‘দুর্গোৎসব শান্তিপূর্ণ, সুশৃঙ্খল ও উৎসবমুখর পরিবেশে সম্পন্ন করতে উপজেলা পূজা উদ্যাপন পরিষদের পক্ষ থেকে প্রয়োজনীয় প্রস্তুতি নেওয়া হচ্ছে। প্রতি বছরের মতো এবারও বাঁশখালীর বিভিন্ন পূজামণ্ডপে ধর্মীয় ভাবগাম্ভীর্য ও আনন্দঘন পরিবেশে দুর্গাপূজা উদ্যাপিত হবে বলে আমরা আশাবাদী। এ জন্য রাজনৈতিক দলের উপজেলা নেতৃবৃন্দ, উপজেলা প্রশাসন, ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান এবং মিডিয়া কর্মীদের আন্তরিক সহযোগিতা কামনা করছি।'
পরিষদের সাধারণ সম্পাদক সঞ্জয় চক্রবর্তী মানিক বলেন, ‘এবার বাঁশখালীতে ৮৮টি মণ্ডপে দুর্গাপূজা এবং ঘরোয়াভাবে ১৮৯টি ঘটপূজা অনুষ্ঠিত হবে। বাঁশখালী দীর্ঘদিন ধরেই সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতির একটি উজ্জ্বল উদাহরণ। সবার সহযোগিতায় এবারও শান্তিপূর্ণ ও উৎসবমুখর পরিবেশে পূজা অনুষ্ঠিত হবে।’
বাঁশখালী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. রবিউল হক বলেন, ‘পূজা শুরু হতে আর প্রায় এক মাস বাকি। পূজার সার্বিক নিরাপত্তা ও শান্তিপূর্ণ পরিবেশ নিশ্চিত করতে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর পক্ষ থেকে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে। যথাযোগ্য মর্যাদায় পূজা উদ্যাপনে সব ধরনের আইনগত সহযোগিতা অব্যাহত থাকবে।’
ছবি: প্রতিমা তৈরিতে ব্যস্ত কারিগর গোকুল পাল। ছবিটি বাঁশখালী পৌরসভার ৪ নম্বর ওয়ার্ডের উত্তর জলদি দক্ষিণ বণিকপাড়া থেকে তোলা।
প্রকাশক ও সম্পাদক : শিব্বির আহমদ রানা, ফোন নম্বর: ০১৭৮১৩-৭৭৮১৯, 𝐄-𝐦𝐚𝐢𝐥: 𝐛𝐚𝐧𝐬𝐡𝐤𝐡𝐚𝐥𝐢𝐬𝐚𝐧𝐠𝐥𝐚𝐩@𝐠𝐦𝐚𝐢𝐥.𝐜𝐨𝐦, অস্থায়ী ঠিকানা: স্মরণিকা প্রিন্টিং প্রেস। উপজেলা সদর, জলদী, বাঁশখালী, পৌরসভা, চট্টগ্রাম।
© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত