নিজস্ব প্রতিবেদক::: চট্টগ্রামের বাঁশখালী উপজেলার কালীপুর ইউনিয়নে জাহাঙ্গীর আলম নামে চিহ্নিত এক মাদক ব্যবসায়ীকে গ্রেপ্তারের দাবিতে বিক্ষোভ মিছিল করেছেন স্থানীয় জনপ্রতিনিধি, সচেতন নাগরিক ও তরুণ-যুবসমাজ। বিক্ষোভ শেষে তারা রামদাশহাট পুলিশ ফাঁড়িতে গিয়ে অবস্থান কর্মসূচি পালন করেন। একপর্যায়ে বিক্ষুব্ধ জনতা জাহাঙ্গীর আলমের কথিত মাদকের আস্তানা হিসেবে পরিচিত একটি স্থাপনা ভাঙচুর ও গুঁড়িয়ে দেন বলে স্থানীয় সূত্র জানিয়েছে।
শনিবার বিকেলে কালীপুর ইউনিয়নের গুনাগরি এলাকায় এ কর্মসূচি অনুষ্ঠিত হয়। বিক্ষোভকারীরা অভিযোগ করেন, মাদক কারবারে বাধা দেওয়ায় জাহাঙ্গীর আলম স্থানীয়দের ওপর হামলা ও ধাওয়া চালিয়েছেন। এ ঘটনায় তাঁকে দ্রুত গ্রেপ্তারের দাবি জানান তারা।
স্থানীয়দের অভিযোগ, শুক্রবার রাত আনুমানিক ১টার দিকে কালীপুর ইউনিয়ন পরিষদ মাঠ এলাকায় মাদক পাচারের সময় জাহাঙ্গীর আলমকে বাধা দেন স্থানীয় জনপ্রতিনিধি ও এলাকাবাসী। এ সময় তিনি উল্টো লোহার রড দিয়ে স্থানীয়দের মারধর এবং ধাওয়া করেন বলে অভিযোগ করা হয়।
ঘটনার পর বিষয়টি পুলিশকে জানানো হলেও জাহাঙ্গীর আলমকে তাৎক্ষণিকভাবে গ্রেপ্তার করা হয়নি–এমন অভিযোগ তুলে শনিবার বিকেলে স্থানীয়রা বিক্ষোভ মিছিল বের করেন। একপর্যায়ে বিক্ষুব্ধ প্রতিবাদী জনতা ও স্থানীয় যুবসমাজ গুনাগরি এলাকায় জাহাঙ্গীর আলমের কথিত মাদকের আস্তানা হিসেবে পরিচিত স্থাপনাটিতে ভাঙচুর চালান এবং সেটি গুঁড়িয়ে দেন বলে স্থানীয় সূত্র জানিয়েছে। পরে প্রধান সড়কে বিক্ষোভ মিছিল করে তারা রামদাশহাট পুলিশ ফাঁড়িতে গিয়ে অবস্থান নেন।
এ সময় বিক্ষোভকারীরা ‘মাদকমুক্ত কালীপুর চাই’, ‘কালীপুরে মাদকের ঠাঁই হবে না’সহ বিভিন্ন স্লোগান দেন। তারা চিহ্নিত মাদক ব্যবসায়ী ও মাদক কারবারের সঙ্গে জড়িতদের দ্রুত আইনের আওতায় আনার দাবি জানান।
কালীপুর ইউনিয়নের ১ নম্বর ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য মো. জিসানুল ইসলাম মিটু বলেন, এলাকার তরুণ ও যুবসমাজকে মাদকের ভয়াবহতা থেকে রক্ষা করতে চিহ্নিত মাদক কারবারিদের বিরুদ্ধে কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া জরুরি। জাহাঙ্গীর আলমের বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগ তদন্ত করে দ্রুত আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানান তিনি।
সমাজকর্মী মো. মারুফ বলেন, মাদকের কারণে এলাকার সামাজিক পরিবেশ ও তরুণ প্রজন্ম ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। দীর্ঘদিন ধরে মাদক ব্যবসার সঙ্গে জড়িত থাকার অভিযোগে অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা প্রয়োজন। এ সময় সমাজকর্মী ইসমাইল হক মাসুদসহ আরও অনেকে মাদকের বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থান নেওয়ার দাবি জানান।
রামদাশহাট পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ এসআই মো. দুলাল হোসেন বলেন, 'স্থানীয় লোকজন জাহাঙ্গীর আলমের কথিত মাদকের আস্তানা হিসেবে পরিচিত একটি স্থাপনা ভাঙচুর করেছে। এর আগে স্থানীয়দের সঙ্গে জাহাঙ্গীরের ধাওয়া-পাল্টাধাওয়ার ঘটনা ঘটেছে বলে তারা জানতে পেরেছেন। তিনি বলেন, 'বিক্ষুব্ধ লোকজন জাহাঙ্গীর আলমকে গ্রেপ্তারের দাবিতে মিছিল করে পুলিশ ফাঁড়িতে এসে অবস্থান নিয়েছিল। অভিযুক্ত জাহাঙ্গীর আলমকে গ্রেপ্তারের চেষ্টা চলছে।'
উল্লেখ্য, কালীপুর ইউনিয়নের গুনাগরি খাসমহল এলাকার বাসিন্দা মো. জাহাঙ্গীর আলমের বিরুদ্ধে দীর্ঘদিন ধরে মাদক কারবারে জড়িত থাকার অভিযোগ রয়েছে। ২০২৬ সালের ৪ ফেব্রুয়ারি তাঁর বাড়িতে সেনাবাহিনীর মাদকবিরোধী অভিযানে ১ হাজার পিস ইয়াবা, নগদ টাকা ও তিনটি মোবাইল ফোন উদ্ধার করা হয় বলে স্থানীয় সূত্র জানিয়েছে। ওই সময় জাহাঙ্গীর পালিয়ে যান এবং তাঁর স্ত্রী পারভিন আক্তারকে আটক করা হয় বলে জানা গেছে।
স্থানীয়দের অভিযোগ, তাঁর বিরুদ্ধে একাধিক মাদক মামলা রয়েছে এবং প্রায় এক যুগ ধরে তিনি বাঁশখালী ও আশপাশের এলাকায় মাদক কারবারের সঙ্গে জড়িত থাকার অভিযোগে আলোচিত। এসব অভিযোগের বিষয়ে জাহাঙ্গীর আলমের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
প্রকাশক ও সম্পাদক : শিব্বির আহমদ রানা, ফোন নম্বর: ০১৭৮১৩-৭৭৮১৯, 𝐄-𝐦𝐚𝐢𝐥: 𝐛𝐚𝐧𝐬𝐡𝐤𝐡𝐚𝐥𝐢𝐬𝐚𝐧𝐠𝐥𝐚𝐩@𝐠𝐦𝐚𝐢𝐥.𝐜𝐨𝐦, অস্থায়ী ঠিকানা: স্মরণিকা প্রিন্টিং প্রেস। উপজেলা সদর, জলদী, বাঁশখালী, পৌরসভা, চট্টগ্রাম।
© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত