শিব্বির আহমদ রানা:: চট্টগ্রামের বাঁশখালী উপজেলার সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও এক্সিকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেট মো. ওমর সানী আকন বদলি হয়ে চাঁদপুরের হাজীগঞ্জ উপজেলায় একই পদে যোগদান করতে যাচ্ছেন। গত ৫ জুলাই তাঁর বদলির আদেশ জারি হওয়ার পর থেকেই বাঁশখালীর বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষের মধ্যে তাঁর কর্মদক্ষতা ও জনবান্ধব ভূমিকা নিয়ে ব্যাপক প্রশংসা দেখা যাচ্ছে।
মো. ওমর সানী আকন ২০২৫ সালের ২০ আগস্ট বাঁশখালী উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) হিসেবে যোগদান করেন। যোগদানের পর থেকেই তিনি মাদক, জুয়া, অবৈধ বালু উত্তোলন, ভূমিদস্যুতা, পরিবেশবিধ্বংসী কর্মকাণ্ড এবং বিভিন্ন অনিয়মের বিরুদ্ধে ধারাবাহিকভাবে ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করেন। দিনের পাশাপাশি গভীর রাতেও অভিযানে নেতৃত্ব দিয়ে তিনি সাহসী ও দায়িত্বশীল কর্মকর্তা হিসেবে পরিচিতি লাভ করেন। মাদক বিক্রি ও সেবনের খবর পেলেই তাৎক্ষণিক অভিযান পরিচালনা করায় স্থানীয়দের কাছে তিনি 'মাদকের আতঙ্ক' হিসেবে পরিচিত হয়ে ওঠেন।
শুধু আইন প্রয়োগই নয়, মাদকাসক্ত সন্তানের নির্যাতনের শিকার অসহায় বাবা-মায়ের অভিযোগ পেয়েও দ্রুত ব্যবস্থা গ্রহণ করেছেন তিনি। অমায়িক আচরণ, জনবান্ধব প্রশাসন, দ্রুত নাগরিকসেবা এবং দৃঢ় প্রশাসনিক অবস্থানের কারণে অল্প সময়েই বাঁশখালীর সাধারণ মানুষ, তরুণ সমাজ ও সচেতন নাগরিকদের আস্থা অর্জন করেন।
প্রশাসনিক সূত্রে জানা গেছে, গত অর্থবছরে তিনি সর্বোচ্চ ৩১০টি মোবাইল কোর্ট পরিচালনা করেন। এ তথ্যের ভিত্তিতে চট্টগ্রাম জেলা প্রশাসকের কার্যালয় তাঁর নাম ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কাছে পাঠায়। পরে রোববার সন্ধ্যায় প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় থেকে প্রটোকল অফিসার-১ ফোন করে সোমবার প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে এক্সিকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেটদের এক অনুষ্ঠানে অংশগ্রহণের জন্য তাঁকে আমন্ত্রণ জানান।
কর্মকালীন সময়ে পরিচালিত ৩১০টি মোবাইল কোর্টের মাধ্যমে ৬২ লাখ ৭১ হাজার টাকা অর্থদণ্ড আদায় করে রাষ্ট্রীয় কোষাগারে জমা দেওয়া হয়। একই সঙ্গে বিভিন্ন অপরাধে ১৪০ জনকে কারাদণ্ড প্রদান করা হয়েছে।
এক্সিকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেট হিসেবে তিনি মূলত মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইন, বাংলাদেশ পরিবেশ সংরক্ষণ আইন, বালুমহাল ও মাটি ব্যবস্থাপনা আইন, স্থানীয় সরকার (ইউনিয়ন পরিষদ ও পৌরসভা) আইন, সড়ক পরিবহন আইন, ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ আইন, ইট প্রস্তুত ও ভাটা স্থাপন (নিয়ন্ত্রণ) আইন, ভূমি অপরাধ প্রতিরোধ ও প্রতিকার আইন, ঔষধ ও কসমেটিকস আইন এবং বাংলাদেশ হোটেল ও রেস্তোরাঁ আইনসহ বিভিন্ন আইনে ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করেন।
ভূমি প্রশাসনেও তিনি উল্লেখযোগ্য সাফল্য অর্জন করেন। সরকার নির্ধারিত নামজারি নিষ্পত্তির গড় সময় ২৮ দিন হলেও তাঁর সময়ে বাঁশখালী উপজেলা ভূমি অফিসে গড় নিষ্পত্তির সময় ছিল মাত্র ২০ দিন, যা নির্ধারিত সময়ের চেয়ে ৮ দিন কম। তাঁর দায়িত্বকালে প্রায় সাড়ে নয় হাজার নামজারি অনুমোদন করা হয় এবং ১ হাজার ২৪৫টি বিবিধ (মিস) মামলার শুনানি সম্পন্ন হয়।
এ ছাড়া ভূমি উন্নয়ন কর আদায়ে তিনি নতুন রেকর্ড গড়েন। তাঁর সময়ে আদায়ের হার ছিল ১৯২ শতাংশ, যা নির্ধারিত লক্ষ্যমাত্রার প্রায় দ্বিগুণ এবং চট্টগ্রাম জেলার মধ্যে সর্বোচ্চ।
মো. ওমর সানী আকন ২০২২ সালের ডিসেম্বরে সিলেট জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ে সহকারী কমিশনার হিসেবে সরকারি চাকরিতে যোগ দেন। পরে তিনি বাঁশখালী উপজেলার সহকারী কমিশনার (ভূমি) হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন।
এদিকে তাঁর বদলির খবর ছড়িয়ে পড়ার পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমসহ বিভিন্ন মহলে তাঁর কর্মদক্ষতা, সততা ও জনসেবামূলক কর্মকাণ্ডের প্রশংসা করছেন স্থানীয়রা। অনেকের মতে, স্বল্প সময়ে নিষ্ঠা, সাহসিকতা ও কর্মদক্ষতার মাধ্যমে তিনি একজন আদর্শ প্রশাসনিক কর্মকর্তা হিসেবে বাঁশখালীর মানুষের হৃদয়ে স্থায়ী স্থান করে নিয়েছেন। তাঁর কর্মজীবন আবারও প্রমাণ করেছে–সততা, নিষ্ঠা ও জনকল্যাণমুখী কাজই একজন কর্মকর্তাকে মানুষের ভালোবাসায় অমর করে রাখে।
প্রকাশক ও সম্পাদক : শিব্বির আহমদ রানা, ফোন নম্বর: ০১৭৮১৩-৭৭৮১৯, 𝐄-𝐦𝐚𝐢𝐥: 𝐛𝐚𝐧𝐬𝐡𝐤𝐡𝐚𝐥𝐢𝐬𝐚𝐧𝐠𝐥𝐚𝐩@𝐠𝐦𝐚𝐢𝐥.𝐜𝐨𝐦, অস্থায়ী ঠিকানা: স্মরণিকা প্রিন্টিং প্রেস। উপজেলা সদর, জলদী, বাঁশখালী, পৌরসভা, চট্টগ্রাম।
© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত