সংলাপ প্রতিবেদন: চট্টগ্রামের বাঁশখালী উপজেলার গন্ডামারা ইউনিয়নে ছিনতাই, চুরি, লুটপাট, ডাকাতি, ইয়াবা কারবার এবং কিশোর গ্যাংয়ের দৌরাত্ম্য আশঙ্কাজনক হারে বৃদ্ধি পেয়েছে। সংঘবদ্ধ অপরাধচক্রের এসব তৎপরতায় সাধারণ মানুষের মধ্যে চরম উদ্বেগ ও নিরাপত্তাহীনতা দেখা দিয়েছে। স্থানীয়দের অভিযোগ, অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড দিন দিন বেড়ে চললেও কার্যকর প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা দৃশ্যমান না হওয়ায় অপরাধীরা আরও বেপরোয়া হয়ে উঠছে।
সম্প্রতি গন্ডামারা ইউনিয়নের ১ নম্বর ওয়ার্ডের শাহ ফতেহ আলী (রহ.) নতুনবাড়ি এলাকায় পূর্বধারা পত্রিকার সম্পাদক ও সাংবাদিক ইঞ্জিনিয়ার মুহাম্মদ মহিউদ্দিনের বাড়িতে ধারাবাহিক চুরি ও লুটপাটের অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় ভুক্তভোগীর ভাই মাওলানা নবীর হোসাইন গত ১৫ জুন বাঁশখালী থানায় একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন।
অভিযোগে উল্লেখ করা হয়, গত ৫ জুন রাতে সংঘবদ্ধ একটি চোরচক্র বাড়িতে প্রবেশ করে নির্মাণসামগ্রী চুরি করে নিয়ে যায়। এছাড়া গত প্রায় দুই বছর ধরে বাড়ির ছাদ ও নির্মাণাধীন অংশে রাখা লোহার রড, সিমেন্ট, বৈদ্যুতিক তার, মোটর, দরজা-জানালার ফিটিংসসহ বিভিন্ন মূল্যবান সামগ্রী ধাপে ধাপে চুরি ও লুটপাট করা হয়েছে। এমনকি ছাদের পিলার ভেঙে ভেতরের লোহার রড কেটে নিয়ে যাওয়ারও অভিযোগ রয়েছে।অভিযোগে ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ প্রায় ১০ লাখ টাকা উল্লেখ করা হয়েছে।
ভুক্তভোগী পরিবারের দাবি, সাংবাদিকতার পেশার কারণে একটি প্রভাবশালী চক্র দীর্ঘদিন ধরে তাদের বিভিন্নভাবে হয়রানি করে আসছে। সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণ না করায় তারা আরও বেপরোয়া হয়ে উঠেছে।
স্থানীয়রা জানান, সম্প্রতি এলাকায় চুরি ও ডাকাতির ঘটনা উদ্বেগজনক হারে বেড়েছে। গত ১৭ জুন গভীর রাতে এস আলম পাওয়ার প্ল্যান্টসংলগ্ন শুয়ারবাপের বাড়ি এলাকায় আফজালের বসতঘরে সংঘটিত ডাকাতির ঘটনাও স্থানীয়দের মধ্যে আতঙ্ক আরও বাড়িয়ে দিয়েছে।
এলাকাবাসীর অভিযোগ, ইয়াবা কারবার বিস্তারের পাশাপাশি কিশোর গ্যাংয়ের তৎপরতাও ভয়াবহ আকার ধারণ করেছে। সন্ধ্যার পর বিভিন্ন এলাকায় একদল বখাটে ও কিশোর গ্যাং সদস্যের আড্ডা, আধিপত্য বিস্তার, মারামারি এবং সাধারণ মানুষকে ভয়ভীতি প্রদর্শনের ঘটনা বেড়েছে। এতে অভিভাবকদের মধ্যে উদ্বেগ বাড়ছে এবং তরুণ সমাজের একটি অংশ অপরাধের দিকে ঝুঁকে পড়ছে।
স্থানীয় বাসিন্দা মোজফ্ফর আহমদ বলেন, 'আগে এমন পরিস্থিতি ছিল না। এখন চুরি, মাদক ও কিশোর গ্যাংয়ের কারণে মানুষ আতঙ্কে রয়েছে। সন্ধ্যার পর অনেকেই প্রয়োজন ছাড়া ঘর থেকে বের হতে চান না।'
স্থানীয় জনপ্রতিনিধি ও সচেতন মহলের দাবি, গন্ডামারার বিভিন্ন এলাকায় মাদক ব্যবসা, কিশোর গ্যাং এবং সংঘবদ্ধ চোরচক্রের মধ্যে যোগসূত্র রয়েছে। মাদকাসক্তদের একটি অংশ চুরি, ছিনতাই ও ডাকাতির মতো অপরাধে জড়িয়ে পড়ায় জননিরাপত্তা মারাত্মক হুমকির মুখে পড়েছে।
এ বিষয়ে স্থানীয় ৪ নম্বর ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য আনছার জানান, এস আলম জেটিতে কয়লা বহনকারী জাহাজের কিছু ক্রুর কাছে ইয়াবা সরবরাহের সঙ্গে স্থানীয় একটি চক্র জড়িত থাকার অভিযোগ রয়েছে। বিষয়টি তিনি গন্ডামারা পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জকে অবহিত করেছেন। তবে সাম্প্রতিক চুরি ও ডাকাতির ঘটনাগুলোর বিষয়ে তিনি বিস্তারিত কিছু জানেন না।
অভিযোগের বিষয়ে বাঁশখালী থানার ওসি (তদন্ত) সুধাংশু শেখর হালদার বলেন, 'লিখিত অভিযোগ পাওয়া গেছে। অভিযোগের বিষয়গুলো তদন্ত করে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।'
গন্ডামারা পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ এসআই এনামুল বলেন, 'লিখিত অভিযোগ পাওয়ার পর সরেজমিনে গিয়ে তদন্ত করা হয়েছে। সংঘবদ্ধ চোরচক্র শনাক্তে কাজ চলছে।'
এদিকে স্থানীয় সচেতন নাগরিকরা গন্ডামারায় চুরি-ডাকাতি, ইয়াবা কারবার এবং কিশোর গ্যাং দমনে বিশেষ অভিযান পরিচালনা, অপরাধীদের দ্রুত গ্রেপ্তার এবং সাধারণ মানুষের জানমালের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে প্রশাসনের জরুরি হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন। তাদের মতে, দ্রুত ও কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণ না করা হলে এলাকার সার্বিক আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির আরও অবনতি ঘটতে পারে।
প্রকাশক ও সম্পাদক : শিব্বির আহমদ রানা, ফোন নম্বর: ০১৭৮১৩-৭৭৮১৯, 𝐄-𝐦𝐚𝐢𝐥: 𝐛𝐚𝐧𝐬𝐡𝐤𝐡𝐚𝐥𝐢𝐬𝐚𝐧𝐠𝐥𝐚𝐩@𝐠𝐦𝐚𝐢𝐥.𝐜𝐨𝐦
অস্থায়ী ঠিকানা: স্মরণিকা প্রিন্টিং প্রেস। উপজেলা সদর, জলদী, বাঁশখালী, পৌরসভা, চট্টগ্রাম।
© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত