বাঁশখালী সংলাপ প্রতিনিধি::: চট্টগ্রামের বাঁশখালী পুঁইছড়ি বন্যপ্রাণী অভয়ারণ্যে স্থাপিত একটি বন নার্সারিতে দুর্বৃত্তদের হামলার ঘটনায় প্রায় ১৪ থেকে ১৫ হাজার বিভিন্ন প্রজাতির চারা বিনষ্টের অভিযোগ উঠেছে। বন বিভাগের দাবি, পরিকল্পিত এ হামলায় প্রায় তিন লাখ টাকার ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে।
জানা গেছে, প্রধানমন্ত্রী ঘোষিত আগামী পাঁচ বছরে ২৫ কোটি চারা রোপণ কর্মসূচির অংশ হিসেবে চুনতি পুনরুদ্ধার প্রকল্পের আওতায় হাতির খাদ্য উপযোগী বাগান সৃষ্টির লক্ষ্যে পুঁইছড়ি বন্যপ্রাণী অভয়ারণ্য বিটের দুইছড়ার মুখ এলাকায় নার্সারিটি স্থাপন করা হয়। গত রাতে একদল দুর্বৃত্ত সেখানে হামলা চালিয়ে হাজার হাজার চারা কেটে বিনষ্ট করে।
এ ঘটনায় বনদস্যু নাছির উদ্দিন বাদশা, আব্দুচ সমদ, জাহেদ হোসেন প্রকাশ জুফালুসহ আরও অজ্ঞাতনামা কয়েকজনের বিরুদ্ধে অভিযোগ উঠেছে। বন বিভাগের ধারণা, পূর্বে অবৈধ গাছকাটা ও সংরক্ষিত বনের পাহাড় কেটে রাস্তা নির্মাণের অভিযোগে দায়ের করা মামলার জেরে প্রতিশোধমূলকভাবে এ হামলা চালানো হয়েছে।
ঘটনার খবর পেয়ে বুধবার সকালে পুঁইছড়ি বিট কর্মকর্তা মো. কামরুল হাছানের নেতৃত্বে ফরেস্ট গার্ড মো. জুয়েলুর রহমান, জুনিয়র ওয়াইল্ডলাইফ স্কাউট সুভাষ চন্দ্র লস্কর এবং ড্রেসার মো. দিদারুল আলম ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন। পরে বিষয়টি রেঞ্জ কর্মকর্তা মো. ইসরাঈল হককে অবহিত করা হলে তিনি দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে জড়িতদের শনাক্ত করে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ দেন।
পুঁইছড়ি বিট কর্মকর্তা মো. কামরুল হাছান বলেন, 'সরকার ঘোষিত বৃহৎ বৃক্ষরোপণ কর্মসূচির অংশ হিসেবে দীর্ঘদিন ধরে চুনতি পুনরুদ্ধার প্রকল্পের আওতায় হাতির খাদ্য উপযোগী বাগান সৃষ্টির কাজ চলছিল। কিন্তু পরিকল্পিতভাবে রাতের আঁধারে হামলা চালিয়ে হাজার হাজার চারা বিনষ্ট করা হয়েছে। এটি শুধু বন বিভাগের নয়, পরিবেশ ও বন্যপ্রাণী সংরক্ষণ কার্যক্রমের ওপরও সরাসরি আঘাত।'
তিনি আরও বলেন, 'অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে আগেও বনভূমিতে অবৈধ গাছকাটা ও পাহাড় কেটে রাস্তা নির্মাণের ঘটনায় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছিল। ধারণা করা হচ্ছে, সেই আক্রোশ থেকেই এ নাশকতা চালানো হয়েছে।'
রেঞ্জ কর্মকর্তা মো. ইসরাঈল হক বলেন, 'বন ও বন্যপ্রাণী রক্ষায় পরিচালিত সরকারি কার্যক্রম বাধাগ্রস্ত করার উদ্দেশ্যে এ ধরনের নাশকতা চালানো হয়েছে বলে প্রাথমিকভাবে প্রতীয়মান হচ্ছে। বন বিভাগের সম্পদ ধ্বংস এবং পরিবেশবিরোধী কর্মকাণ্ডের সঙ্গে জড়িত কাউকে ছাড় দেওয়া হবে না। ইতোমধ্যে ঘটনাস্থল পরিদর্শন করা হয়েছে এবং জড়িতদের বিরুদ্ধে দ্রুত আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।'
বন বিভাগ জানিয়েছে, বন ও বন্যপ্রাণী সংরক্ষণ কার্যক্রম ব্যাহত করার এ ঘটনায় জড়িতদের শনাক্ত করে দ্রুত আইনের আওতায় আনার প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে।
প্রকাশক ও সম্পাদক : শিব্বির আহমদ রানা, ফোন নম্বর: ০১৮১৩৯২২৪২৮, 𝐄-𝐦𝐚𝐢𝐥: 𝐛𝐚𝐧𝐬𝐡𝐤𝐡𝐚𝐥𝐢𝐬𝐚𝐧𝐠𝐥𝐚𝐩@𝐠𝐦𝐚𝐢𝐥.𝐜𝐨𝐦
অস্থায়ী ঠিকানা: স্মরণিকা প্রিন্টিং প্রেস। উপজেলা সদর, জলদী, বাঁশখালী, পৌরসভা, চট্টগ্রাম
© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত