বাঁশখালী সংলাপ::: চট্টগ্রামের বাঁশখালী উপজেলায় মাদকাসক্তির ভয়াবহ চিত্র আবারও সামনে এসেছে পৃথক ঘটনায়, যেখানে ইয়াবার নেশায় জড়িয়ে পড়ে এক যুবকের জীবন বিপর্যস্ত হওয়ার পাশাপাশি তার পরিবারও চরম দুর্ভোগের মুখে পড়েছে। হৃদয়বিদারক এ ঘটনায় স্থানীয়দের মাঝে উদ্বেগ ও হতাশা ক্রমেই বাড়ছে।
শনিবার (১৮ এপ্রিল) ভোররাত প্রায় ৩টার দিকে উপজেলার পশ্চিম চাম্বল ইউনিয়নের চড়াতি পাড়ায় পরিচালিত এক মোবাইল কোর্ট অভিযানে ১৮ বছর বয়সী মো. মামুনকে ইয়াবা সেবনরত অবস্থায় আটক করা হয়। অভিযানে নেতৃত্ব দেন বাঁশখালী উপজেলার সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও এক্সিকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেট মো. ওমর সানী আকন। এ সময় বাঁশখালী থানা পুলিশ ও স্থানীয় বাসিন্দারা সহযোগিতা করেন।
অভিযান চলাকালে উপস্থিত মামুনের মা কান্নাজড়িত কণ্ঠে জানান, ইয়াবার নেশার টাকা জোগাড় করতে তার ছেলে সংসারের প্রয়োজনীয় জিনিসপত্র বিক্রি করে দেয়। এমনকি প্রতিবেশীদের বাড়ি থেকেও গৃহস্থালি সামগ্রী চুরি করতে দ্বিধা করে না। দীর্ঘদিন ধরে এ কারণে পরিবারটি সামাজিক লজ্জা, নিরাপত্তাহীনতা ও মানসিক অস্থিরতার মধ্যে দিন কাটাচ্ছে।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, মামুন পেশায় একজন জেলে শ্রমিক। তিনি বঙ্গোপসাগরে মাছ ধরার ট্রলারে কাজ করতেন। তবে বর্তমানে সাগরে মাছ ধরা বন্ধ থাকায় তিনি বেকার হয়ে পড়েন এবং সেই সুযোগে মাদকের প্রতি তার আসক্তি আরও বেড়ে যায়। আটকের পর নিজের অপরাধ স্বীকার করায় ভ্রাম্যমাণ আদালত তাকে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইন, ২০১৮-এর ৩৬(৫) ধারায় ৩০০ টাকা অর্থদণ্ড এবং ৪ মাসের বিনাশ্রম কারাদণ্ড প্রদান করেন।
এ বিষয়ে নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মো. ওমর সানী আকন বলেন, 'মাদকবিরোধী অভিযানে কোনো ধরনের ছাড় দেওয়া হবে না। যুবসমাজকে ধ্বংসের হাত থেকে রক্ষায় প্রশাসনের এই অভিযান অব্যাহত থাকবে।'
এদিকে, স্থানীয় সচেতন মহল বলছে, মাদকের বিস্তার রোধে প্রশাসনের অভিযান অব্যাহত থাকলেও পরিবার ও সমাজের সম্মিলিত উদ্যোগ ছাড়া এই ভয়াবহ সমস্যা নিয়ন্ত্রণ করা কঠিন হয়ে পড়বে।
প্রকাশক ও সম্পাদক : শিব্বির আহমদ রানা, ফোন নম্বর: ০১৮১৩৯২২৪২৮, 𝐄-𝐦𝐚𝐢𝐥: 𝐛𝐚𝐧𝐬𝐡𝐤𝐡𝐚𝐥𝐢𝐬𝐚𝐧𝐠𝐥𝐚𝐩@𝐠𝐦𝐚𝐢𝐥.𝐜𝐨𝐦
অস্থায়ী ঠিকানা: স্মরণিকা প্রিন্টিং প্রেস। উপজেলা সদর, জলদী, বাঁশখালী, পৌরসভা, চট্টগ্রাম
© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত