কল্যাণ বড়ুয়া, জাপান থেকে:: জাপানের সর্বোচ্চ ও বিশ্বখ্যাত আগ্নেয়গিরি মাউন্ট ফুজি-কে কাছ থেকে দেখার বিরল সুযোগ হয়েছিল এক শীতল ভোরে। রোববার সকালে টোকিওর Tokyo থেকে বিশেষ গাড়িতে যাত্রা করে পৌঁছে যাই প্রকৃতির এই অনন্য বিস্ময়ের কাছে।
সেখানে পৌঁছে দেখা যায়—দেশ-বিদেশ থেকে আগত শত শত পর্যটক এক নজর ফুজিকে দেখার জন্য উন্মুখ। কেউ ছবি তুলতে ব্যস্ত, কেউবা পাশের পাহাড়ে প্রায় ৪০০ সিঁড়ি বেয়ে ওপরে উঠছে। শিশু থেকে শুরু করে প্রবীণ—সব বয়সের মানুষের মধ্যে এক ধরনের উচ্ছ্বাস ও প্রতিযোগিতার আবহ লক্ষ্য করা যায়।
পাহাড়ের চূড়ায় অবস্থিত Chureito Pagoda থেকে ফুজি পর্বতের অপূর্ব দৃশ্য চোখে পড়ে। বিশাল এলাকা জুড়ে ছড়িয়ে থাকা গাড়ি, পর্যটকের ভিড় এবং তুষারঢাকা শিখর মিলিয়ে এক মনোমুগ্ধকর দৃশ্যপট তৈরি করে।
৩,৭৭৬ মিটার (১২,৩৮৮ ফুট) উচ্চতার Mount Fuji জাপানের সর্বোচ্চ শৃঙ্গ। এটি Honshu দ্বীপে Shizuoka ও Yamanashi প্রিফেকচারের সীমান্তে অবস্থিত। ২০১৩ সালে এটি UNESCO কর্তৃক বিশ্ব ঐতিহ্য হিসেবে স্বীকৃতি পায়। ফুজি শুধু একটি পাহাড় নয়, বরং জাপানি সংস্কৃতি, ঐতিহ্য ও নান্দনিকতার এক প্রতীক।
ভ্রমণের সেরা সময়ঃ গ্রীষ্ম (জুলাই–আগস্ট)। পর্বতারোহণের জন্য সবচেয়ে উপযোগী সময়ঃ
শরৎ (নভেম্বর): পরিষ্কার আকাশ ও রঙিন ম্যাপল পাতার সৌন্দর্য
শীতকাল: তুষারঢাকা ফুজির সবচেয়ে স্বচ্ছ ও মনোরম দৃশ্য উপভোগের সময়।
আশেপাশের দর্শনীয় স্থানঃ Fuji Five Lakes: বিশেষ করে কাওয়াগুচিকো লেক থেকে ফুজির প্রতিচ্ছবি অসাধারণ লাগে
Hakone: অনসেন (গরম পানির কুণ্ড) ও লেকের পাশে বসে ফুজি দর্শনের জনপ্রিয় স্থান
যাতায়াতঃ Shinjuku থেকে সরাসরি বাস বা ট্রেনে ২–২.৫ ঘণ্টায় সহজেই পৌঁছানো যায়।
ভ্রমণ টিপসঃ ভোরে বা শীতকালে গেলে মেঘমুক্ত আকাশে পরিষ্কারভাবে ফুজি দেখা যায়। পাহাড়ে উঠতে হলে উপযুক্ত পোশাক ও প্রস্তুতি জরুরি। আগে থেকেই আবহাওয়া জেনে পরিকল্পনা করা ভালো। জাপানে ভ্রমণের পরিকল্পনায় থাকলে মাউন্ট ফুজি অবশ্যই আপনার তালিকায় রাখুন। প্রকৃতি, সংস্কৃতি ও নান্দনিকতার এক অনন্য সমন্বয় এই আগ্নেয়গিরি—যা একবার দেখলে চিরদিন মনে গেঁথে থাকবে।
প্রকাশক ও সম্পাদক : শিব্বির আহমদ রানা, ফোন নম্বর: ০১৮১৩৯২২৪২৮, 𝐄-𝐦𝐚𝐢𝐥: 𝐛𝐚𝐧𝐬𝐡𝐤𝐡𝐚𝐥𝐢𝐬𝐚𝐧𝐠𝐥𝐚𝐩@𝐠𝐦𝐚𝐢𝐥.𝐜𝐨𝐦
অস্থায়ী ঠিকানা: স্মরণিকা প্রিন্টিং প্রেস। উপজেলা সদর, জলদী, বাঁশখালী, পৌরসভা, চট্টগ্রাম
© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত