নিজস্ব প্রতিবেদক::: চট্টগ্রামের বাঁশখালী উপজেলার সাধনপুর ইউনিয়নের বাণীগ্রাম বৈলগাঁও এলাকায় মহিলা জামায়াতের একটি ক্যাম্পেইনে বিনা উসকানিতে অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ ও বাধা প্রদানের অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনার প্রতিবাদে মঙ্গলবার দুপুরে স্থানীয় জামায়াত-শিবিরের উদ্যোগে একটি প্রতিবাদ মিছিল অনুষ্ঠিত হয়। পরবর্তীতে ওই ঘটনাকে কেন্দ্র করে সাধনপুর ইউনিয়নের বাণীগ্রাম নতুন বাজার এলাকায় একাধিক দোকানে ভাঙচুর ও নগদ অর্থ লুটপাটের অভিযোগ পাওয়া গেছে।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, বাণীগ্রাম নতুন বাজার এলাকায় বিএনপির সক্রিয় একটি গ্রুপের কয়েকজন ব্যক্তি এসব ঘটনায় জড়িত থাকতে পারে বলে অভিযোগ উঠেছে।
ভুক্তভোগীদের দাবি অনুযায়ী, মঙ্গলবার (২৭ জানুয়ারি) সকাল আনুমানিক ১১টার দিকে উপজেলার ২ নম্বর ওয়ার্ডের বৈলগাঁও এলাকায় মহিলা জামায়াতের একটি প্রচারণা কার্যক্রম চলাকালে কোনো প্রকার উসকানি ছাড়াই গালিগালাজ করে। এ সময় সংশ্লিষ্টদের প্রায় দুই ঘণ্টা অবরুদ্ধ করে রাখা হয় বলে অভিযোগ রয়েছে।
পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে উঠলে বিষয়টি আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে অবহিত করা হয়। খবর পেয়ে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা সকালে ঘটনাস্থলে উপস্থিত হয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনেন। পরবর্তীতে ঘটনার প্রতিবাদে জামায়াতের নেতাকর্মীরা একটি প্রতিবাদ মিছিল বের করেন।
ক্ষতিগ্রস্ত মো. ইসমাইল জানান, তার সেনিটারি দোকানে হামলা চালিয়ে ভাঙচুর করা হয়। পাশাপাশি তার বসতঘরে হামলা চালায়। অপর ক্ষতিগ্রস্ত মো. মনছুর জানান, তার ‘কুলিং কর্নার’ ও চায়ের দোকানে হামলা চালিয়ে মালামাল ভাঙচুর করা হয় এবং নগদ অর্থ লুট করা হয়। এছাড়া জামায়াত কর্মী বাদশার পানের দোকানেও হামলা চালিয়ে মালামাল ভাঙচুর এবং লুট করা হয়েছে বলে অভিযোগ রয়েছে।
জানা গেছে, ক্ষতিগ্রস্ত তিনজনই বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর কর্মী। মোহাম্মদ মনছুর ইউনিট সেক্রেটারি এবং মো. ইসমাইল ওয়ার্ড জামায়াতের সাংগঠনিক সম্পাদক হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন।
ঘটনার প্রত্যক্ষদর্শী ও ইউনিয়ন যুব বিভাগের সেক্রেটারি মো. ফারুখ আজম জানান, 'সন্ধ্যা আনুমানিক ৬টার দিকে বিএনপি নেতা মিজান মোল্লার নেতৃত্বে ৩০-৪০ জনের একটি সংঘবদ্ধ দল বাণীগ্রাম স্কুল গেট এলাকা থেকে আমাদের লোকজনের দোকানে হামলা চালায়। তারা দোকান ভাঙচুর ও লুটপাট করে এবং ফাঁকা গুলি ছুঁড়ে আতঙ্ক সৃষ্টি করে।'
তিনি আরও অভিযোগ করেন, ঘটনার বিষয়ে পুলিশকে জানানো হলে রামদাস হাট পুলিশ ফাঁড়ির তদন্ত কর্মকর্তা ঘটনাস্থলে উপস্থিত হয়ে উল্টো তাদের লোকজনকে বকাঝকা করেন।
উপজেলা জামায়াতে ইসলামীর আমীর মুহাম্মদ ইসমাইল বলেন, 'এ ধরনের ঘটনা কোনোভাবেই কাম্য নয়। যারা বিনা উসকানিতে আমাদের মহিলা কর্মীদের অবরুদ্ধ করেছে এবং পরবর্তীতে নতুন বাজার এলাকায় আমাদের কর্মীদের দোকানে হামলা চালিয়েছে, তাদের অবিলম্বে আইনের আওতায় এনে গ্রেপ্তার করা হোক।'
রামদাস হাট পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ তপন কুমার বাগচি বলেন, 'ফাঁকা গুলি ছোঁড়ার বিষয়ে আমি অবগত নই। বকাঝকার অভিযোগটি সঠিক নয়। লিখিত অভিযোগ পেলে আমরা আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করবো। তবে এ ঘটনায় সেনাবাহিনী অভিযুক্ত মিজান মোল্লার বাড়ি থেকে একটি মোটরসাইকেল ও একটি রামদা উদ্ধার করে থানা পুলিশের হেফাজতে দিয়েছে।'
এ বিষয়ে অভিযুক্তদের বক্তব্য জানতে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
ক্ষতিগ্রস্তরা ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত, দোষীদের দ্রুত চিহ্নিত করে আইনের আওতায় আনা এবং লুট হওয়া অর্থ ও মালামাল উদ্ধারের দাবি জানিয়েছেন।
প্রকাশক ও সম্পাদক : শিব্বির আহমদ রানা, ফোন নম্বর: ০১৮১৩৯২২৪২৮, 𝐄-𝐦𝐚𝐢𝐥: 𝐛𝐚𝐧𝐬𝐡𝐤𝐡𝐚𝐥𝐢𝐬𝐚𝐧𝐠𝐥𝐚𝐩@𝐠𝐦𝐚𝐢𝐥.𝐜𝐨𝐦
অস্থায়ী ঠিকানা: স্মরণিকা প্রিন্টিং প্রেস। উপজেলা সদর, জলদী, বাঁশখালী, পৌরসভা, চট্টগ্রাম
© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত